অনলাইন ডেস্কঃ
প্রকাশ : Jul 30, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার কবিতার ভুবনে এক যাদুকরী নাম

শাহাবুদ্দিন আহমেদ, দাউদকান্দি কুমিল্লাঃ

দৈনিক কালবেলার দাউদকান্দি প্রতিনিধি সাংবাদিক শাহাবউদ্দিন আহাম্মেদ এর ভাবনায় তুলে ধরেছেন কবি হোসাইন মোহাম্মদ দিদার কাব্যময় জীবন...
বুক পকেট মৃত্যু নিয়ে এই জনপদের এক কবি ঘুরছেন রাতবিরেত। বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে কী শুধু কবিই ঘুরে! কে মৃত্যু বুকে না নিয়ে ঘুরে? মৃত্যু বুকে নিয়ে ঘুরে রাজা থেকে প্রজা, ফেরিঅলা, ফুল ও ফল বিক্রেতা। মূলত সৃষ্টি মানেই লয়। আমরা প্রকৃতার্থে বুক পকেটে মৃত্যু নিয়েই ঘুরছি। আমাদের জাতীয় কবি,  প্রেম ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে নীরবে কবিতার আলোয়ে ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত করে তুলছেন এই সমাজের এক তরুণ তুর্কী হোসাইন মোহাম্মদ দিদার। তিনি কবিতা লিখে চলছেন প্রায় দুই যুগের অধিক সময় ধরে। তার কবিতায় সুফিবাদের তীব্র দর্শন পরিলক্ষিত। যে একবার তার এই সুফিবাদে অবগাহন করেছে; সে জানে খোদ তার কবিতা মুধুময় অমিয় স্বাদে ভরপুর। তার হাতের লেখায় ইসলামি দর্শন যেন কমন। তিনি তার দর্শনে রাষ্ট্র, সমাজ সংক্রমণের কথা বলার পাশাপাশি, তা থেকে পরিত্রাণের কথাও চমৎকারভাবে বন্দনা করেছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ এ পর্যন্ত ৭ টি। এরমধ্যে থেকে সবকটি কবিতার বইয়ে খোদাপ্রেম, খোদা ভীতি, নবী প্রেম দেখতে পাই। সর্বশেষ প্রকাশিত কবির তিনটি কবিতার বই— অন্যরকম মেঘ, সে  ফিরবে না আর ও বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে ঘুরি।  এই তিনটি গ্রন্থের ভিতরে যাপিত জীবনের সকল ক্ষত কেমন, এবং তার লেখায় তা থেকে  আরগ্য হওয়ার মত নির্যাস রয়েছে। 
তিনি তার সর্বশেষ প্রকাশিত" বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে ঘুরি "  কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতায় লিখেছেন, 'আমি তো চেয়েই এনেছি তোমার থেকে দুঃখ/ সইতে যেন পারি প্রস্তুত করো আমার বক্ষ। মানুষ যখন দুঃখে থাকে তখন সেটা রবের পক্ষ থেকেই উপহার হিসেবে আসে, এ কথাই কবি তার লিখিত কাপলেটে বুঝাতে চেয়েছেন। এবং সেই দুঃখ যদি পাহাড়সমও হয় তা যেন সহ্য করতে পারেন সেজন্য রবের প্রতি প্রার্থনাও জানিয়েছেন। 
দোযখ নামে আরেকটি কাপলেটে কবি লিখেছেন, 'নাচে চোখের সামনে দোজখ / অথচ বেহেশত যাওয়ার শখ'।আসলে আমাদের পারিপার্শ্বিক সমাজ ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে, যেন ঘর থেকে বের হলেই বেলেল্লাপনা চোখের সামনে এসে উপস্থিত হয়। এই অবস্থায় মানুষের ঈমান ধরে রাখা কতোটা কঠিন সেই কথাটিই কবি তার কাব্যিক ভাষায় বলেছেন। এভাবেই নানান উপমা আর ছন্দেবন্দে কালের কথা বলেছেন। স্রস্টার অস্তিত্বের জানান দিতে গিয়ে কবি তার সৃষ্টি 'মিরাকল' নামক কবিতায় লিখেছেন পৃথিবীর মিরাকল বলতে যদি কিছু থাকে সেটা তো— 'তুমিই'। আসলেই তো দুনিয়ায় সবচেয়ে রহস্যময় ও আশ্চর্যের বিষয়তো স্রস্টাই। নবির প্রেমের জানান দিতে 'আমিনা মায়ের কোলে' নামক কবিতায় তিনি লিখেছেন—"সেই ফুলের খুশবু মেখে/ পথ চলিব হেসেহেসে; সেই ফুলেতে প্রাণ সপেছি/ সকল কিছু ভুলে।"
নবি প্রেম একটা নিঃস্ব মানুষকে আশা জাগায়, আলোকিত জীবন উপহার দেয়। তিমির প্রহর ভেদ করে আলো এনে দেয়; তার লেখা ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে নবি প্রেমে নিজেকে সপে দিতে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করবে।
বলাবাহুল্য জীবন যার কবিতা সঙ্গী। যার কবিতা দুঃসময়ে হয়ে ওঠে হাতিয়ার। পথ দেখায় আলোর। ভাঙা হৃদয় করে একত্রীকরণ। অবচেতন বিবেকে করে তুলে জাগ্রত। তরুণ এই তুর্কীর হাতে কবিতার মশাল।বিশেষ করে গেল বছর-২৪ গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমির বিষয়টিকে কবি এভাবে বলেছেন বিপ্লবীদের যখন মৃত্যু বুক পকেটে থাকে।  দেখা গেছে ঐ সময়টা ছিল একটা অনিশ্চিত সময়। মানুষ জীবন নিয়ে ঘর থেকে বের হলেই লাশ হয়ে ফিরতে হতো। কুরআন-হাদীসে মৃত্যুর কথা বারবার স্মরণ করার তাগিদ দিয়েছেন আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল(সা.)। তবে  কবিতার মাধ্যমে মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে দিয়েছেন এ কবি বারংবার । তার 'বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে ' কাব্যগ্রন্থটি যে একবার পড়বে সে আর স্থির থাকতে পারবে না। বারবার নিজেকে হারাবে মৃত্যুর গহ্বরে।
ঐসব সমসাময়িক নানান বিষয়ে মহুয়া কবিতার শব্দে বন্দে ছন্দে স্রস্টা, নবি প্রেম, মানবিক প্রেম,সুফিজম, মাটি ও মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করে লেখা তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো একদিন মানুষের হৃদয় জয় করবে এমনটাই ধারণা করা যায়। 
ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ, আল-মাহমুদ কিংবা  মতিউর রহমান মল্লিক যে পথে হেঁটেছেন। বলা যায়,  তরুণ কবি হোসাইন মোহাম্মদ দিদার অনেকটাই সেই পথ ধরেই হাঁটছেন। ক্লান্তিহীন এই পথচলা কবিকে একদিন হয়তো অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কবি চান কবিতার মাধ্যমে একটি মানবিক পৃথিবীর কথা বলতে,বারবার নবি প্রেম ও খোদা প্রেম কিংবা দেশ প্রেমের বিশদ বর্ণনা ফুটে ওঠেছে তার সব কবিতায় ও প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থে।
মানুষের ভাষা বুঝে, দাবি বুঝে লেখার সক্ষম কবি হিসেবে ইতিমধ্যে পাঠকের মনমণিকোঠায়  জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ এই কবি।কবি তাঁর বহুমাত্রিক কবিতার তুলির আছড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কথাও সাজিয়ে ধরছেন অপরুপ বর্ণনা ভঙ্গিতে। তাঁর কবিতা হৃদয় জাগাবে,জয় করবে মন।
শান্তির পায়রা উড়িয়ে দিতে চান তার কবিতার মাধ্যমে, তিনি চমৎকার লিখেছেন এইটুকু কবিত্ব জীবনে। কালের পরিক্রমায় এই কবি যদি সুদীর্ঘকাল কবিতা লিখতে পারেন তাহলে তার কবিতার সুন্দরের ধ্বনি, কবিতার মাধ্যমে বলা মানবতার জয়গানের ধ্বনি পৌঁছে যাবে গোটা দুনিয়া জুড়ে। কবির লেখায় ত্রি-মাত্রিক ছন্দের উৎপত্তি বেশি উপস্থিতি। কখনো স্বরবৃত্তে লিখেছেন, আবার মাত্রাবৃত্তে ও অক্ষরবৃত্তের বলয়ে লিখেছেন। এর মধ্য বেশিরভাগ কবিতা ফ্রি ভার্সে ঠাঁই পেয়েছে।
ছন্দ,অলংকার, সুগভীর ভাবনা, দর্শনের মিশেলে ঘটিয়েছেন নতুন ডাইমেনশন। কখনো কখনো ছন্দের পতন ঘটিয়ে নিজস্ব কাব্যিক শক্তির চিন্তায় আধুনিক  কবিতার সৃষ্টিকে নিয়ে গেছেন নিজ দখলে। বলা যায়, এক্ষেত্রে কবিতা কবিকে নিয়ন্ত্রণ  বা শাসন করতে পারেনি,বরং কবি তার মোহাবিষ্ট ভাবনায় কবিতাকে  নিয়ন্ত্রণ করে স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন।
শেষ করছি কবির" পৃথিবীটা সেদিন মানুষের হতো একটি কবিতার পংক্তি দিয়ে তিনি লিখেছেন—
"পৃথিবীটা সেদিন মানুষের হতো যদি প্রতিটা মানুষ মানুষ হতো/ পৃথিবীটা সেদিন মানুষের হতো যদি পৃথিবীতে কোনো সংঘাত না হতো।"
তিনি তার সর্বশেষ কবিতার বইয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ভাবনায় কিছু কবিতা লিখেছেন যা পাঠকের কাছে খুব হৃদয়স্পর্শী মনে হবে। তিনি আমার এখন খুব ভয় করে কবিতায় লিখেছেন,"এখন আমার পোশাকধারী দেখলেই ভয় করে/সাদা পোশাকধারী দেখলেও ভয় করে/সামরিকবাহিনীকে দেখলে তো ভয়ে তটস্থ থাকি/ এখন ভয় করে আমার প্রাক্তন প্রেমিকাকে দেখলেও।"
মূলত তিনি ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের করুণ আর্তনাদ, অগণিত তরুণ যুবার আত্মাহুতির কথা সুকৌশলে তুলে ধরেছেন। এই সুগভীর চিন্তা ও দর্শন যে কাউকে মর্মাঘাত করার পাশাপাশি ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত করবে।
এই গ্রন্থের, আমাকে পড়তে চাইলে,অনুকাব্যে তিনি লিখেছেন, " দূর থেকেও পড়তে চাইলে পড়তে পারো আমায়/ চোখের তারা বলে দিবে কতটুকু ভালোবাসি তোমায়।"
তিনি হয়তো তার সমগ্র দেহের আয়না হিসেবে চোখের তারাকে বুজিয়েছেন। হয়তো তার চোখের চাহনিযুক্ত তারা অনায়াসে বলে দিতে সক্ষম কবির ভালোবাসা কেমন সুগভীর। কবিকে দেখতে চাইলে হয়তো তার চোখের তারায় তাকিয়ে বলতে পারব।কতটুকু ভালোবাসেন তিনি মানুষ ও জগত।
পৃথিবীর মানুষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে মানুষকে সংশোধিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কবি। যদি মানুষের পৃথিবী হয় তাহলে এত হানাহানি সংঘাত খুনখারাবি কেনো? পৃথিবীর আর সৃষ্টিরাজি তো মানুষের মতো এত হানাহানি করে না, মানুষ কেনো সৃষ্টির সেরা হয়ে এত রাহাজানি করছে। তাহলে আর শ্রেষ্ঠত্বর মূল্য কী? কবি চান মানুষের হৃদয় জাগুক। মানবতার সেবায় মানুষ এগিয়ে আসুক।তবেই  পৃথিবীটা শান্তির হবে। পরিশেষে বলা যায়, কবি হোসাইন মোহাম্মদ দিদার একজন খ্যাতিমান কবি হিসেবে সমাদৃত হবেন। তার কবিতা ফুলের ঘ্রাণের মতো চৌদিকে ম ম করে সুগন্ধি ছড়িয়ে দিবে গোটা দুনিয়া জুড়ে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেবিদ্বারে সড়কের অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিল ভ্রাম্যমান আদালত

1

ডাকসুতে স্বতন্ত্র প্যানেলে নির্বাচন করবেন উমামা ফাতেমা

2

ইউক্রেনের জনগণকে ভালোবাসি: ট্রাম্প

3

দাউদকান্দিতে বারপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পদত্য

4

কুমিল্লায় গাড়িচাপায় প্রাণ গেল মা–মেয়ের

5

সীমানা নির্ধারণে দাবি ও আপত্তির সময় দিল ইসি

6

কুমিল্লায় ডা. ফয়সালের নেতৃত্বে সফল অস্ত্রোপচার: রোগীর পেট থে

7

উৎসবমুখর ক্যাম্পাস ॥ ডাকসু নির্বাচন

8

কুমিল্লায় বাসা থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

9

দাউদকান্দিতে জুলাই বিপ্লবের চেতনায় রাষ্ট্র গঠন শীর্ষক আলোচনা

10

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের

11

কালীগঞ্জ পৌর শহর যেন মশার স্বর্গরাজ্য ডোবা-নালায় আবর্জনার স্

12

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

13

চাপ সৃষ্টি করে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলা যাবে না: মির্জা ফখরুল

14

আগামী ৫০ বছরে আওয়ামী লীগ নামে কোনো বর্জ্য এ দেশে থাকবে না: ড

15

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

16

অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কলমই সাংবাদিকতার আসল শক

17

দাউদকান্দিতে সাংবাদিকদের সাথে ইউএনওর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

18

মৎস্য খাতে জাতীয় স্বর্ণপদক পেলেন দাউদকান্দির রহমত আলী

19

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

20